রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
সাদিকা জাহান
রমজানে রোজা রাখার সময় অনেকের কোমর ব্যথা বেড়ে যায়, যা দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে। তবে কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। চলুন জেনে নেই রোজায় কোমর ব্যথা প্রতিরোধে করণীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সাহরি ও ইফতারে সঠিক খাদ্য নির্বাচন প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন: মাছ, মুরগি, ডিম, দুধ, দই, বাদাম, ছোলা এবং শাকসবজি নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখুন। এসব খাবার হাড় ও পেশিকে শক্তিশালী করে এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি প্রদাহ কমানোর জন্য অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি খাবার যেমন: হলুদ, আদা, রসুন, অলিভ অয়েল, বাদাম ও সামুদ্রিক মাছ খাওয়া উপকারী। ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন: দুধ, দই, পনির, মাশরুম, সূর্যমুখীর বীজ এবং সবুজ শাকসবজি গ্রহণ করুন। সূর্যের আলোতেও কিছুক্ষণ সময় কাটান।
পর্যাপ্ত পানি পান রমজানে পানির ঘাটতি হলে মাসল এবং জয়েন্ট শুকিয়ে গিয়ে কোমর ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তাই ইফতার থেকে সাহরির মধ্যে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। চা, কফি বা সফট ড্রিংক কম পান করুন, কারণ এগুলো শরীর থেকে পানি বের করে দেয়।
ভাজাপোড়া এবং অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন এসব খাবার প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় এবং কোমর ব্যথা তীব্র করে। বেশি লবণ খেলে শরীরে পানি জমে, যা কোমর ব্যথার সমস্যা বাড়ায়। তাই স্বাস্থ্যকর এবং হালকা খাবার বেছে নিন।
সঠিক শোবার অভ্যাস কোমর ব্যথা কমাতে মাঝারি-কঠিন গদি ব্যবহার করুন। চিত হয়ে শোয়ার সময় হাঁটুর নিচে বালিশ দিন এবং পাশে ফিরে শোয়ার সময় দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ রাখুন। উঁচু বালিশ ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট করতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা এড়িয়ে চলুন প্রতি ৩০-৪৫ মিনিট পর একটু হাঁটাহাঁটি করুন। সোজা হয়ে বসুন এবং নীচু বা শক্ত চেয়ারে না বসে আরামদায়ক কুশনযুক্ত চেয়ার ব্যবহার করুন। ভারি বস্তু তুলতে হলে কোমর সোজা রেখে হাঁটু ভাঁজ করে তুলুন।
ফিজিওথেরাপি এবং ব্যথা নিরাময় কোমর ব্যথা নিরাময়ে ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকর। ব্যথা কমাতে গরম সেঁক (হট প্যাক) বা ঠান্ডা সেঁক (আইস প্যাক) ব্যবহার করতে পারেন। ব্যথানাশক জেল বা পেইন রিলিফ স্প্রে প্রয়োগও উপকারী। তবে বেশি ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রমজানে কোমর ব্যথা প্রতিরোধে এই উপায়গুলো অনুসরণ করলে আপনি সুস্থ থাকতে পারবেন এবং রোজার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন।